সোমবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১২

বাল্যবিবাহ


 শ্যামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী কলি আক্তার বেশ কয়েকদিন ধরেই স্কুলে আসছে নাযে মেয়ে ঝড়-বৃষ্টি, কোন প্রতিকূল অবস্থাতেই স্কুল কামাই করে না, সে হঠাৎ কেন স্কুল কামাই দিচ্ছে, তা নিয়ে শ্রেণী শিক্ষক আউয়াল আলী একটু চিন্তিত হয়ে পড়লেনপরে কলির এক সহপাঠীর কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন যে কলির বাবা তার বিয়ে ঠিক করেছে বিশ বছর বয়সী এক যুবকের সাথে; কিন্তু কলি বিয়ে করতে চায় না, সে আরও পড়ালেখা করতে চায়সব শুনে আউয়াল আলী কলির বাবাকে বুঝাতে গেলেন যে এই বাল্যবিবাহ একটি অপরাধকিন্তু কে শুনে কার কথাকলির বাবা শিক্ষককে উল্টো অপমান করে দিলেনকিন্তু আউয়াল আলীও দমবার পাত্র ননতিনি এলাকার বিশিষ্ট উকিল ইমতিয়াজ সাহেবের কাছে যেয়ে সব খুলে বললেনপরদিন আউয়াল আলী ইমতিয়াজ সাহেব এবং এলাকার চেয়ারম্যান কলিদের বাড়িতে গেলেনউকিল সাহেব বললেন বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ১৯২৯ (সংশোধিত) অনুযায়ী বাল্যবিবাহকারীদের বিচার হয়ে থাকে
কলির বাবা : উকিল সাহেব, বাল্যবিবাহ আসলে কি?
উকিল : বিয়ের সময় কোন পাত্রের বয়স যদি ২১ বছরের নিচে এবং কনের বয়স ১৮ বছরের নিচে হয় তখন তাকে বাল্যবিবাহ বলা হয় ব্যাখ্যা: ১
কলির বাবা : বাল্যবিবাহ কি আইনের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ ?
উকিল : অবশ্যই, বাল্যবিবাহ আইনের দৃষ্টিতে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ ব্যাখ্যা: ২
কলির বাবা : আইনে বাল্যবিবাহের কি ধরণের শাস্তির কথা বলা হয়েছে ?

                                                                                                                                                                                                  ছবিরস্বত্ব   বারসিক
 উকিল : আইনে- শিশু বিবাহকারীর শাস্তি, বিয়ে সম্পন্নকারীর শাস্তি, অভিভাবকের শাস্তি এই তিন ধাপে বাল্যবিবাহের কথা বলা হয়েছেশাস্তির পরিমান হলো ১মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড বা ১ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় প্রকার দন্ড।  ব্যাখ্যা: ৩
কলির বাবা : বাল্যবিবাহের পর কোন মেয়ে সাবালক হয়ে কি সেই বিয়ে বাতিল করতে পারে? 
উকিল : কোন নারীর ১৮ বছর পূর্ণ না হলে এবং তার সম্মতি ছাড়া বিয়ে হলে তিনি মুসলিম বিবাহ বাতিল আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী আদালতে বিয়ে বাতিলের আবেদন করতে পারেন তবে এক্ষেত্রে দুটি শর্ত অবশ্যই পূরণ করতে হবে-
  1.  মেয়েটি যদি স্বামীর সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন না করে অর্থাৎ সহবাস না করে
  2.  মেয়েটির বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর এবং ১৯ বছর পার হওয়ার আগে বিয়েকে অস্বীকার করতে হবে
কলির বাবা : বাল্যবিবাহের কি কি ক্ষতিকর দিক আছে ?
উকিল : বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক বা কুফল ভয়াবহবাল্যবিবাহের বেশ কিছু ক্ষতিকারক দিক হলো¾
  • বাল্যবিবাহের দরুন মা ও সন্তান উভয়ের মৃত্যু ঝুঁকি বেড়ে যায়
  • কিশোরী গর্ভবতী মায়ের প্রসবজনিত ঝুঁকি বা রক্তে বিষক্রিয়া, গর্ভপাত, রক্তক্ষরণ, বাঁধাগ্রস্থ প্রসব, সংক্রমণ ও ক্ষত হয়
  • শিশুর স্বল্প ওজন হয় ও অপুষ্টিতে ভুগে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়
  • নারীরা অধিক মাত্রায় নির্যাতনের শিকার হয় এবং মানসিকভাবে অসু্স্থ্য হয়ে পড়ে
  • শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়
  • অধিকার সর্ম্পকে অসচেতন থাকে
  • অর্থনৈতিকভাবে নারীরা স্থিতিশীল হতে পারে না
  • দাম্পত্য কলহ বাড়ে এবং বহুবিবাহের হার বৃদ্ধি পায়

আউয়াল : উকিল সাহেব বাল্য বিবাহের ঘটনা ঘটলে কখন মামলা করতে হয়?
উকিল : এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন মাস্টার সাহেবযে তারিখে বাল্যবিবাহ সংঘটিত হয় বা হওয়ার ঘটনা শুনা যায় সে তারিখ থেকে ১ বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে; তারপরে মামলা করলে আদালত অপরাধ আমলে নিবে নাব্যাখ্যা:৪
আউয়াল : আচ্ছা, উকিল সাহেব বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে যে কোন ব্যক্তি কোন জায়গা থেকে আইনের সহায়তা পেতে পারেন?
উকিল : এক্ষেত্রে যে কেউ নিচের সংগঠনগুলো থেকে আইনি সহায়তা পেতে পারেন :
ঠিকানা
ঠিকানা
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, কেন্দ্রিয় কার্যালয় সুফিয়া কামাল ভবন, ১০/বি/১ সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০ফোন-৭১৬৯৭০১, ফ্যাক্স ৮৮-০২-৯৫৬৩৫২৯,
ই-মেইল-mahila@bd.com
ওয়েব- http://www.mahilaparishad.org
মহিলা আইনজীবী সমিতি, ৪৮/৩, মনিকো মিনা টাওয়ার, পশ্চিম আঁগারগাঁও, ঢাকা, ফোন-৯১৪৩২৯৩
ই-মেইল- http://www.bnwla.org.bd


আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ৭/১৭, ব্লক-ই, লালমাটিয়া ঢাকা, ফোন-৮৩১৫৮৫১, ৮১২৬১৩৪, ৮১২৬১৩৭        
৮১২৬০৪৭, ই-মেইল- ask@eitechco.net
ওয়েব- http://www.askbd.org/web/

ব্লাস্ট, ১/১ পায়নিয়ার রোড/ ওয়াইএমসিএ, কাকরাইল, ঢাকা, ফোন-৮১৭১৮৫, ৯৩৪৯১২৬

তাছাড়া নিচের সংগঠনগুলো স্থানীয়ভাবে আইনি সহায়তা দিয়ে থাকে :
  • ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/নারী ও পুরুষ সদস্য
  • পৌরসভার চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড কমিশনার
  • নিকটবর্তী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
  • উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা
  • উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
  • জেলা প্রশাসক
  • জেলা জজের নেতৃত্বে আর্থিকভাবে অসহায়দের সেবাদান কর্তৃপক্ষ
  • নিকটস্থ এনজিও/বেসরকারী প্রতিষ্ঠান যারা এ বিষয়ে কাজ করছেন
  • মানবাধিকার সংগঠন সমূহ
  • মহিলা মন্ত্রনালয়ের আওতায় মহিলা অধিদপ্তরের আইন সহায়তা সেল
আউয়াল : উকিল সাহেব, বাল্যবিবাহে নির্যাতিত নারীরা কোন জায়গায় গেলে জরুরি চিকিৎসা পাবেন ?
উকিল : যেসব প্রতিষ্ঠানে জরুরী সেবা পাওয়া যাবে সে গুলো হলো :
  • ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র
  • উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
  • মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র
  • জেলা হাসপাতাল
  • মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল
  • ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (বিভাগীয় পর্যায়ে মেডিকেল  কলেজ হাসপাতালে অবস্থিত)
  • বিভিন্ন বেসরকারী সেবা কেন্দ্র
উকিল : তাছাড়া, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নিচের ব্যক্তিগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন :
  • পৌরসভা, মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন বা সরকারী  কোন কর্তৃপক্ষ ঐ এলাকার ১ম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে পারবেন
  • এছাড়া সামাজিকভাবে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার বিশেষ করে নির্বাচিত নারী মেম্বাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেনযে কোন সচেতন নাগরিকও বাল্যবিবাহরোধে উদ্যোগ নিতে পারেন
  • বাল্যবিবাহ রোধে জন্মনিবন্ধনের একটি বিশেষ ভূমিকা রয়েছেপ্রত্যেক শিশুর জন্ম নিবন্ধন হলে বাল্যবিবাহ অনেকাংশে কমে যাবে
  • বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
  • সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের অন্যতম দায়িত্ব হচ্ছে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন করা
  • নারী ও শিশু কল্যাণ, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া বিষয়ক ইউনিয়ন পরিষদের স্থায়ী কমিটি বাল্যবিবাহ নিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন
  • বাল্যবিবাহ নিরোধে কাজী ও ইমামদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে
  • ইমাম প্রশিক্ষণে বাল্যবিবাহ নিরোধের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছেযাতে করে এ কর্মসূচি সফল করতে ইমামরা ভূমিকা রাখতে পারেন
  • ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন বেসরকারী সংগঠন বাল্যবিবাহ নিরোধে সচেতনতা মূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে পারে

এরপর, কলির বাবা সব শুনে বিয়ে বন্ধ করে দিলেন এবং সবার সামনে কথা দিলেন তার মেয়ের 18 বছর না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিবেন না

২০১০ সালের একটি ঘটনা:কিশোরীর বিয়ে, ১০ জনের জরিমানা’ - এই শিরোনামে ২২ মে ২০১০ শনিবার, প্রথম আলো পত্রিকায় একটি খবর প্রকাশিত হয়এতে বলা হয়, নোয়াখালীর সেনবাগে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া ১২ বছরের এক স্কুল ছাত্রীকে বিয়ে দেয়ার দায়ে ভ্রাম্যমান আদালত নয়জনকে এক হাজার টাকা করে ও একজনকে ৫০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাস করে ও একজনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন

গত ২০ মে ২০১০ খৃঃ সেনবাগের প্রধান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁর কার্যালয়ে বসানো ভ্রাম্যমান আদালতে ২০০৯ সালের ভ্রাম্যমান আদালত আইনের আওতায় ১৯২৯ সালের বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনের ৪, ৫ ও ৬ ধারায় বাল্যবিবাহে সহায়তা করার দায়ে এই রায় দেনদন্ডপ্রাপ্ত ব্যাক্তিরা হলেন- কনের বাবা, কনের মা, বর, বরের বাবা, বিয়ের সাক্ষীগণ (দুপক্ষের ৪ জন) এবং কাজীএকই সঙ্গে বিয়ে পড়ানোর দায়ে স্থানীয় মসজিদের মোয়াজ্জিনকে ৫০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়দন্ড পাওয়া ব্যক্তিরা জরিমানার টাকা পরিশোধ করে কারাদন্ড থেকে রেহাই পান এ সময় আদালত কনের বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেয়ার আদেশ দেন

সচরাচর জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: ১. বাল্যবিবাহ কি আইনের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ?
উত্তর: হ্যাঁ,বাল্যবিবাহ আইনের দৃষ্টিতে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ
প্রশ্ন: ২. বাল্যবিবাহের শাস্তি কি?
উত্তর: ১ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড বা ১ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় প্রকারে দন্ড
প্রশ্ন: ৩. বাল্যবিবাহের ক্ষতিকারক দিক গুলো কি কি?
উত্তর:
  • বাল্যবিবাহের দরুন মা ও সন্তান উভয়ের মৃত্যু ঝুঁকি বেড়ে যায়
  • শিশুর স্বল্প ওজন হয় ও অপুষ্টিতে ভুগে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়
  • নারীরা অধিক মাত্রায় নির্যাতনের শিকার হয় এবং মানসিকভাবে অসু্স্থ হয়ে পড়ে
  • অর্থনৈতিকভাবে নারীরা স্থিতিশীল হতে পারে না
প্রশ্ন:৪. বাল্যবিবাহের বিয়ে কি বৈধ?
উত্তর: বাল্যবিবাহ একটি বেআইনী বিবাহ আইনসম্মত বিবাহ হতে হলে বরের ২১ বছর ও কনের ১৮ বছর পূর্ণ হতে হয়তবে বাল্য বিবাহ সম্পন্ন হয়ে গেলে তা বাতিলযোগ্য
প্রশ্ন:৫. বাল্যবিবাহের পর কোন মেয়ে সাবালক হয়ে কি সেই বিয়ে বাতিল করতে পারে?
উত্তর: কোন নারীর ১৮ বছর পূর্ণ না হলে এবং তার সম্মতি ছাড়া বিয়ে হলে তিনি মুসলিম বিবাহ বাতিল আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী আদালতে বিয়ে বাতিলের আবেদন করতে পারেন তবে এক্ষেত্রে দুটি শর্ত অবশ্যই পূরণ করতে হবে-
  1.  মেয়েটি যদি স্বামীর সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন না করে অর্থাৎ সহবাস না করে
  2.  মেয়েটির বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর এবং ১৯ বছর পার হওয়ার আগে বিয়েকে অস্বীকার করতে হবে

প্রশ্ন: ৬.বাল্যবিবাহের জন্য কে কে শাস্তি পাবেন?
উত্তর: শিশু বিবাহকারী পুরুষ, বিবাহ রেজিস্ট্রেশনকারী কাজী, অভিভাবকসহ বাল্যবিবাহের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ

তথ্যসূত্র
  1. বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ১৯২৯
  2. লাহিড়ী, চন্দন কুমার, জন্মনিবন্ধন   বাল্যবিবাহ বিবাহ রেজিস্ট্রেশন, রচনা ও গ্রন্থনা: সম্পাদনা: রহমান, শাহীন, প্রকাশনায়: জেন্ডার আ্যন্ড ডেভলেপমেন্ট কমিউনিকেশন সেন্টার, স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভলপমেন্ট
  3. পন্ডিত সুবর্ণা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ নারীর মানবাধিকার রক্ষায় একটি ইতিবাচক দিক, উন্নয়ন পদক্ষেপ, ত্রয়োদশ বর্ষ, ২য় সংখ্যা, মার্চ ২০০৭
  4. প্রজনন স্বাস্থ্য,নিরাপদ মাতৃত্ব এবং জেন্ডার সহায়িকা, পৃষ্ঠা নং-২২, ২৩, প্রথম সংস্করণ: মে-২০০৭, প্রকাশক:আইইএম ইউনিট, পরিবার কল্যাণ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, আর্থিক সহযোগিতায়: জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA)

বাল্যবিবাহ : ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা : ১
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ের সাথে ২১ বছরের কম বয়সী ছেলের বিয়েকেই বাল্যবিবাহ বলা হয়১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বাল্যবিবাহ বলতে বোঝায়, বাল্যকাল বা নাবালক বয়সে ছেলে মেয়েদের মধ্যে বিয়েএছাড়া বর-কনে দুজনেরই বা একজনের বয়স বিয়ের আইন অনুযায়ী নির্ধারিত বয়সের কম হলে অর্থাৎ বিয়েতে মেয়ের বয়স ১৮ বছরের নিচে অথবা ছেলের বয়স ২১ বছরের নিচে থাকলে সেটাও আইনের চোখে বাল্যবিবাহ বলে চিহ্নিত হবে
ব্যাখ্যা : ২
১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী-
  • বাল্যবিবাহ আইনের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ
  • পিতা-মাতা সহ এই বিয়ের সাথে যুক্ত সকলেই শাস্তি পাবেন
  • বাল্য বিবাহ একটি বাতিলযোগ্য বিবাহ
ব্যাখ্যা : ৩
শিশু বিবাহকারীর শাস্তি
১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ধারা -৪ অনুযায়ী
  • ২১ বছরের বেশি বয়সের কোন পুরুষ অথবা ১৮ বছরের বেশি বয়সের নারী কোন বাল্যবিবাহের চুক্তি করলে, সে ১মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড বা ১ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ড হতে পারে
বিয়ে সম্পন্নকারীর শাস্তি
১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ধারা-৫, অনুযায়ী-
  • কোনো ব্যক্তি কোন বাল্যবিবাহ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা বা নির্দেশ প্রদান করলে তার ১ মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড বা ১ হাজার টাকা জরিমানা বা তিনি উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারেনযদি তিনি প্রমাণ করতে পারেন যে বিবাহটি বাল্যবিবাহ হিসেবে বিশ্বাস করার কোন কারণ ছিল না, সেক্ষেত্রে তিনি এই অপরাধের দায় থেকে মুক্তি পেতে পারেন

অভিভাবকের শাস্তি
১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ধারা -৬ অনুযায়ী,
  • যে ক্ষেত্রে কোন নাবালক কোন বাল্যবিবাহের চুক্তি করে, সেক্ষেত্রে ঐ নাবালকের পিতা-মাতা, অভিভাবক যদি উক্ত বিবাহে উৎসাহ দেয়ার কাজ করে অথবা বিবাহ বন্ধ করতে অবহেলার কারণে ব্যর্থ হয়, তবে ঐ ব্যক্তি ১ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড বা ১ হাজার টাকা জরিমানাসহ উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারেন
  • শর্ত থাকে যে, এক্ষেত্রে কোন নারীকে কারাদন্ড দেয়া যাবে না
ব্যাখ্যা : ৪
১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ধারা-৯, অনুযায়ী-
এই আইনের অধীন কোন অপরাধের বিচারের জন্য আদালত কোন ক্ষেত্রেই যে তারিখে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে কথিত হয়, সে তারিখ হতে এক বৎসর অতিবাহিত হওয়ার পর গ্রহণ করবে না


0টি মন্তব্য:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এতে সদস্যতা মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন [Atom]

<< হোম