ময়মনসিংহের নান্দাইলের জাহাঙ্গীরপুরে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ
জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের ১
নং ওয়ার্ডের দেউলডাঙ্গা গ্রামের জেনি আক্তার নামে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীর পারিবারিকভাবে বিবাহ ঠিক করে। মেয়েটির বাবার নাম আশরাফ উদ্দিন। কিন্তু মেয়েটি বিয়েতে রাজী না হওয়ায় তার
পাশ্ববর্তি বিকশিত নারীনেত্রী জেসমিন আক্তার এর নিকট মেয়েটি তার বিয়ের
কথা বলে বিয়ের দু’দিন আগে এবং কান্নাকাটি করতে থাকে।
তারপর জেসমিন কয়েকজন সহ ইয়ূথ লিডারের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে এবং মেয়েটির বাড়ীতে গিয়ে
বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে
বোঝাতে থাকে। মেয়েটির পরিবার তাকে বিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে অনড় থাকে। জেসমিন আক্তার
বোঝাতে ব্যর্থ হলে ইউপি সমন্বয়কারী ডা: মজিবুরের সাথে করে নিয়ে নান্দাইল প্রেসক্লাবে যায়। সাংবাদিক আব্দুল হান্নান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি সাথে
সাথে থানার ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তাকে জনান। অতঃপর বিয়ের দিন সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, ২ জন পুলিশ এবং ৬জন প্রেসক্লাবের সাংবাদিক আশরাফ উদ্দিনের বাড়ীতে যান। বাড়িতে গিয়ে তারা
দেখেন গরু জবাই চলছে। বিয়ের সকল
ধরনের আয়োজন শেষ। বরযাত্রী আসার অপেক্ষায় বিয়ে বাড়ীর লোকজন। আশরাফ উদ্দিন প্রশাসনের লোকজন পুলিশ, সাংবাদিক দেখে ভয় পেয়ে যায়। সে তাদের লিখিতভাবে মুচলেকা দেয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিয়েটি বন্ধ হয় এবং বর মাঝপথ থেকে ফেরত যায়। কিন্তু মেয়েটির বাবা রাতের বেলায় বিয়ে
দেবার চেষ্টা চালায়। বিকশিত নারীনেত্রী,
উজ্জীবক ও ইয়ূথদের প্রচেষ্টায় বিয়েটি দিতে পারেনি।
এই বিয়ে বন্ধ হওয়ার ফলে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এই বিয়েটি বন্ধ হওয়ার কারণে এলাকার মানুষের মধ্যে সচেতনতার সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে আরো
কয়েকটি বাল্যবিবাহ দেবার উদ্যোগ হয়েছিল কিন্তু এলাকার সচেতনতার কারণে তা ভেসে- গেছে। এই বিষয়টি শুধু জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নেই প্রভাব পড়ে নাই পাশ্ববর্তী ইউনিয়ন
গুলোতে এর প্রভাব পড়েছে।
উল্লেখ্য বর্তমানে মেয়েটি আবার স্কুলে যাওয়া শুরু
করেছে।

0টি মন্তব্য:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
এতে সদস্যতা মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন [Atom]
<< হোম